দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দেওয়ার পরও দেশে ফিরতে পারছেন না বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আসাদুল বক্তিয়ার। মাফিয়া চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার এই প্রবাসী এখন অসুস্থ অবস্থায় লিবিয়ায় এক বাংলাদেশির আশ্রয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দেশে ফিরতে প্রয়োজনীয় বিমান ভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে না পারায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার। এ অবস্থায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাঁদত্রিশিরা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল বক্তিয়ার ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর বৈধভাবে ভিজিট ভিসায় লিবিয়ায় যান। সেখানে আনজারা শহরে একটি দর্জির দোকানে কাজ করতেন এবং প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন।
পরিবারের দাবি, চলতি বছরের রমজান মাসে সেহরি খাওয়ার পর ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র চক্র তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি আস্তানায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্যাতন এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি জানানো হলে ৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সেই অর্থ জোগাড় করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। এ সময়জুড়ে আসাদুলের ওপর নির্যাতন চলতে থাকে বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবার জানায়, ধারদেনা ও সুদে ৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রী নিপা বেগমের বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তিন দফায় মোট ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর গত ২০ মে রাতে চোখ বেঁধে তাকে একটি সড়কে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।
পরে সুমন নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী তাকে উদ্ধার করে নিজের বাসায় আশ্রয় দেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে উন্নত চিকিৎসা ও দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় দেড় লাখ টাকা বিমান ভাড়া জোগাড় করতে না পারায় এখনো লিবিয়াতেই আটকে রয়েছেন আসাদুল।
আসাদুলের স্ত্রী নিপা বেগম বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনলেও তিনি এখনো গুরুতর অসুস্থ। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পাঠানো হলেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসা এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
তিনি বলেন, স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান ভাড়ার জন্য দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সবকিছু বিক্রি ও ধারদেনা করে মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পর এখন আর সেই অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই।
নিপা বেগম আরও জানান, সাত ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
অসহায় পরিবারটি আসাদুলকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
যে আই